ক্রিকসেল-CricCel: লীগ এ লিজেন্ড অথচ জাতীয় দলে জায়গা হয়নি কোনদিন !গত রবিবার ভারতের রঞ্জি ট্রফির সর্বোচ্চ উইকেট শিকারি লীগ লিজেন্ড রাজিন্দর গোয়েল মারা যান। লীগে এই বা-হাতি বোলারের কদর থাকলেও জাতীয় দলের হয়ে ম্যাচ খেলেন নি কোন দিন। একবার ওয়েস্ট ইন্ডিজ ট্যুরে তার ডাক পড়লেও তাকে রাখা হয় নি মূল একাদশে।
লীগ এ লিজেন্ড অথচ জাতীয় দলে জায়গা হয়নি কোনদিন !
লীগ এ লিজেন্ড অথচ জাতীয় দলে জায়গা হয়নি কোনদিন !
এই নিয়ে তার আক্ষেপের অন্তও ছিল না। কষ্টে একবার বলেও ফেলেছিলেন ‘ভুল সময়ে জন্ম আমার’এমন অনেক ক্লাব বা লীগ খেলোয়াড় আছে যারা লীগে লিজেন্ড। এখন লীগ লিজেন্ড বললে অনেকে এইটাকে মশকরা মনে করে। কিন্তু আসলেই কিছু খেলোয়াড় আছে যাদের যোগ্যতা থাকা শর্তেও জাতীয় দলে জায়গা হয় নি। তারা লীগে লিজেন্ডের তকমা পেয়েছেন, হাজার হাজার রান শ’খানেক উইকেট শিকারি অনেকে। এমন ৮ লীগ লিজেন্ডদের কথা শুনিয়েছে ক্রিকইফো।
ক্রিকইনফোর লেখার ছায়া অবলম্বনে একটু বড় করে লিখলাম।
লীগ এ লিজেন্ড অথচ জাতীয় দলে জায়গা হয়নি কোনদিন !

১. জেমি কক্স (অস্ট্রেলিয়া)- ১৯৬৯ সালের ১৫ই অক্টোবর তাসমানিয়ার বার্নিতে জন্ম গ্রহন করেন। ছোট বেলা থেকেই ক্রিকেটের প্রতি অন্য রকম। তা নাহলে হাই স্কুলে পড়া একটি ছেলে অস্ট্রেলিয়ার স্কুল ক্রিকেটে সব ধরণের ব্যাটিং রেকর্ড ভাঙতে পারতেন না। ১৯৮৪ সালে ১৫ বছর বয়সে ওয়েনার্ড এর হয়ে স্থানীয় ক্লাবে তার খেলা শুরু।
সে প্রথম অস্ট্রেলিয়ান রুলস ফুটবল (রাগবি) খেলোয়াড় ছিলেন কিন্তু ক্রিকেটের প্রতিই আগ্রহ তার বেশি থাকায় ক্রিকেটেই ফিরে আসেন।


১৯৮৭-৮৮ মৌসুমে তাসমানিয়ার হয়ে ভিক্টরিয়ার বিপক্ষে অস্ট্রেলিয়ার প্রথম শ্রেণীর ক্রিকেটে অভিষেক হয়। এর পরের বছর ১৯৮৮-৮৯ মৌসুমে নিউ সাউথ ওয়েলসের বিপক্ষে অভিষেক হয়। ১৯৮৭ থেকে ২০০৫ সাল পর্যন্ত ফাস্ট ক্লাস ক্রিকেট খেলেছেন জেমি কক্স। ২৬৪টি ম্যাচ খেলে ৫১ সেঞ্চুরি ও ৮১টি হাফ সেঞ্চুরি করেছেন। ৪৬৭ ইনিংস ব্যাট করে ৪২.৬৯ এভারেজে ফাস্ট ক্লাসে তার রান ১৮৬১৪। এর মধ্যে ‘পুরা কাপ-শেফফিল্ড শিল্ড’ এর ইতিহাসে সর্বাধিক ১৬১ ম্যাচ খেলেছেন জেমি। শেফফিল্ড শিল্ডে অস্ট্রেলিয়ার সেরা ব্যাটসম্যান ডেরেন ল্যহম্যানের পর সর্বোচ্চ রানের তালিকায় নাম লিখান জেমি কক্স। ১৬১ ম্যাচে ১০৮২১রান করেন, যেখানে তার সেঞ্চুরি ছিল ৩০টি ও হাফ সেঞ্চুরি ছিল ৪৭টি, সর্বোচ্চ রান ২৪৫।

লিস্ট-এ ১৯২ ম্যাচ খেলে ৬ সেঞ্চুরি ও ৩৯ হাফ সেঞ্চুরিতে করেন ৫৭১৬ রান।
ইংলেন্ডের কাউন্টি দল সমারসেটের হয়েও খেলেছেন তিনি। ১৯৯৯-২০০২ সালে সমারসেটের ক্যাপ্টেনো ছিলেন জেমি। ২০০১ সালে তার নেতৃত্বে সমারসেট সি এন্ড জি ট্রফিও জিতে। এতো সাফল্যের পরও অস্ট্রেলিয়ার জাতীয় দলে জায়গা হয় নি তার। তার স্বপ্ন ছিল অজিদের টেস্ট দলে খেলা ও ক্যাপ্টিন হওয়া। কিন্তু ২০০৫ সালে এক প্রকার অভিমান নিয়েই অবসরে চলে যান তিনি।
তবে মজার বিষয় হল যে ব্যাক্তি অনেক চেষ্টা করেও অস্ট্রেলিয়ার সিলেক্টরদের নজর কাড়তে পারেন নি তিনি ২০০৬ সালে এলেন বর্ডারের পরিবর্তে অস্ট্রেলিয়ার টীম সিলেক্টর হয়ে যান।

তিনি সেই সময় বলেছিলেন,
গত এক দশক সিলেক্টররা আমাকে হতাশ করেছে। আমি মনে করি আমার যে ক্যারিয়ারটা অর্জন করেছি তা আমাকে নির্বাচক হতে ভালো সাহায্য করেছে
২০১১ সালে তিনি এই পদ থেকে পদত্যাগ করেন।

ক্রিকেটের বাহিরে খেলার ফাকে পত্রিকাতে লিখালিখি করতেন। পরবর্তীতে অস্ট্রেলিয়ার ‘এবিসি’ টেলিভিশনে কমেন্টেটর হিসাবেও ছিলেন। ২০০৮-১৪ জেমি কক্স সাউথ ক্রিকেট এ্যাসোসিয়েশনের ডিরেক্টর ছিলেন। পরবর্তীতে তাকে এই পদ সরিয়ে দিইয়া হয়। ২০১৪ সালে অস্ট্রেলিয়া ফুটবল লীগ এ সেন্ট কিল্ডা ফুটবল ক্লাবের ম্যানেজার পদে নিযুক্ত হন।

২. রাজিন্দর গোয়েল (ভারত)- জীবনে শুধু খেলেছেন ভারতের ঘরোয়া লীগগুলোতে। জাতীয় দলের হয়ে খেলেন নি এক ম্যাচও তবু তিনি পেয়েছেন লিজেন্ডের তকমা। ভারতের রঞ্জি কাঁপানো বাঁ-হাতি স্পিনার রাজিন্দর গোয়েল। ১৯৪২ সালের ২০ সেপ্টেম্বর হরিয়ানার, নারওয়ানাতে জন্ম গ্রহণ করেন রাজিন্দর। মাত্র ১৬ বছর বয়সেই সকলের নজরে চলে আসেন।


১৯৫৮-৫৯ থেকে ১৯৮৪-৮৫ মৌসুম পর্যন্ত খেলেছে ভারতের রঞ্জি ট্রফিতে। ২৭ বছরে পাটিওয়ালা, উত্তর পাঞ্জাব, দিল্লি ও হরিয়ানার হয়ে খেলেছেন। প্রথম শ্রেনির ক্রিকেটে তার সংগ্রহ ৭৫০টি উইকেট। রঞ্জি ট্রফিতে নিয়েছেন ৬৩৭টি উইকেট যা এই টুর্নামেন্টে সর্বকালের সর্বোচ্চ উইকেট সংগ্রহ। তার স্পিন ঘূর্ণিতে ভারতের লীগ খেলা অনেকে রথি মহারথি কুপকাত হয়েছেন।
কিংবদন্তী ক্রিকেটার সুনিল গাভাস্কারতার বইতে রাজিন্দর গোয়েল সম্পর্কে লিখতে গিয়ে বলেছিলেন
“সে একমাত্র বোলার যার বল খেলতে আমার ভয় লাগত। আমি কখনই তার বাহাতি স্পিনের বিপক্ষে খেলতে সাছন্দ্যবোধ করতাম না, তার স্পিনের বাক গুলো আমাকে কখনোই ডাউন দ্যা ট্রেকে এসে ড্রাইভ করার সুযোগই দিত না”

এত প্রতিভাবান হওয়া শর্তেও জায়গা হয় নি জাতীয় দলে থেকেছেন লীগ লিজেন্ড হয়ে। জাতীয় দলে যে সুযোগ আসে নি তা নয়। অবশ্য ১৯৭৪-৭৫ সালে ভারত বনাম ওয়েস্ট ইন্ডিজ সিরিজে একবার ডাক পেয়েছিলেন কিন্তু জাতীয় দলের হয়ে মূল একাদশে জায়গা হয় নি। তার রঞ্জির রেকর্ড আজ পর্যন্ত কেউ ভাঙতে পারে নি।
তিনি হতাশা থেকে একবার বলেছিলেন ‘অসময়ে জন্ম আমার’।
তার ছেলে নিতিন গোয়েলও বাবার মতই ক্রিকেটে আছেন। খেলে যাচ্ছেন ভারতের ঘরোয়া লীগ।


তিনি শুধু যে ক্রিকেটার ছিলেন তা নয় ভারতের স্টেট ব্যাংকের চাকুরিও করতেন তিনি। হয়েছিলেন হরিয়ানা ও ভারত জুনিয়ার টিমের টীম সিলেক্টর।
১৫৭টি প্রথম শ্রেনির ক্রিকেট ও ৮টি লিস্ট-এ ক্রিকেট খেলেছেন।
১৫৭ ১ম শ্রেনির ক্রিকেটে তার সংগ্রহ ২.১০ ইকোনমিতে ৭৫০ উইকেট
সেরা বোলিং- ৮/৫৫, ৫ উইকেট- ৫৯বার, ১০ উইকেট- ১৮বার
২২শে জুন ২০২০ সালে দীর্ঘদিন রোগভোগ করে মারা যান এই লীগ লিজেন্ড।
“খেলা সংক্রান্ত সকল সাম্প্রতিক খবর জানতে লাইক করুন আমাদের Facebook পেজ অথবা ফলো করুন Twitter আর সাবস্ক্রাইব করুন YouTube”

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here